নীরবতা—এ যেন এক অব্যক্ত কবিতা, এক অনুচ্চারিত অনুভূতি, যেখানে শব্দের বাহুল্য নেই, অথচ অর্থের গভীরতা সীমাহীন। কখনো এটি অভিমানের কালো মেঘ হয়ে ঝরে পড়ে, কখনো বা সম্মতির মৃদু আলো হয়ে জ্বলজ্বল করে।
একটি শূন্য কক্ষের নিস্তব্ধতা যেমন একাকিত্বের প্রতিচ্ছবি, তেমনি ভালোবাসার গভীরে নীরবতা হয়ে ওঠে মধুরতম ভাষা। শব্দহীনতার মাঝে কখনো প্রচণ্ড ব্যথার গুমোট জমে থাকে, কখনো বা নিশ্চুপ সম্মতির মধুর মুগ্ধতা। প্রেমিক যখন তার প্রিয়জনের সামনে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সে হয়তো হাজারও কথা বলে ফেলে—নিরবতার সুরে, চোখের ভাষায়।
তবে নীরবতা শুধু আবেগের বাহন নয়, এটি কখনো প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্রও হয়ে ওঠে। ইতিহাস সাক্ষী, বহু বিপ্লবের সূচনা হয়েছে নিস্তব্ধতার গভীর গহ্বর থেকে। যে নীরবতা একদিন পরাধীনতার শৃঙ্খল মেনে নিয়েছিল, সেই নীরবতাই একদিন বজ্রনিনাদে বিস্ফোরিত হয়ে মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
এ এক অদ্ভুত সত্য—নীরবতাই কখনো কখনো সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্য প্রকাশের মাধ্যম হয়। জ্ঞানের গভীরতায় ডুবে থাকা মনীষী হয়তো কম বলেন, কিন্তু তাদের নীরবতা অনন্ত ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। তেমনি, একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যখন পরিস্থিতির গভীরে প্রবেশ করেন, তখন তার মৌনতা হয়ে ওঠে প্রজ্ঞার নিদর্শন।
তাই, নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার অবকাশ নেই। এটি কখনো ব্যথার বিস্তার, কখনো ভালোবাসার অঙ্গীকার; কখনো প্রতিরোধের শপথ, আবার কখনো বোধের মহত্তম প্রকাশ। শব্দের জগতে নীরবতাই এক অনন্য ভাষা, যা বোঝার জন্য প্রয়োজন অনুভূতির সূক্ষ্মতা ও হৃদয়ের গভীর শ্রবণশক্তি।
—
—
তারেক জামিল (উফিয়া আনহু)
ত্বালিব: আল—আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর।
29 শা'বান, 46হি। See less
ঝাঁকেঝাঁকে ইলমের পাখিরা তাকমিল ফিল হাদিস দিয়ে ফারিগ হচ্ছে। ইলমের খেদমাতগাহগুলোতে নিজ নিজ শিকড় পুতে নিচ্ছে। কতক আবার তাখাসসুসের জন্য ফন্ন ভিত্তিক স্টাডি জারি রাখছে। যারফলাফল আজ দেখলে শুধুই মুগ্ধতা ছেয়ে যায়।
উলূমে হাদীছ থেকে উলূমে ফিক্বাহসহ প্রতিটি শাস্ত্রে কাফি হাদ তক রিজালের দেখা মিলছে। ফা-ল হামদু লিল্লাহ। মানতিক্ব শাস্ত্রেও নিত্যনতুন আফইয়ালের আবির্ভাব।
সাহিত্যাঙ্গিনাতে পক্ত তারুণ্যের নবোচ্ছাস। মসজিদ-মাদরাসাতে ইনহিসার না থেকে প্রতিটি ময়দানে অস্ব ছোটাচ্ছে ক্বাসিম নানুতবীর সেনারা-মাশাল্লাহ।
ল্যাকিন, শত আফসোস নিয়ে, বুকের হালকা শ্বাসকে ভারি করে স্বীকার্য যে, “উলূমে কুর’আনে” আহলে মাহারাতের দুর্ভিক্ষ্য বিরাজমানতা আজ চতুর্দিকে!
নেহায়াত হালাত এমন প্যারায় দাঁড়াচ্ছে, যা কোনোভাবেই এক্সেপ্ট না করে, চোখবুজে এড়িয়ে যাওয়া নিজেদের উপর অত্যাধিক কনফিডেন্সের প্রমাণবহে!
মেধাবী তালাবাদের তালিকাতে প্রতিনিয়ত জড়ো হচ্ছে চোখধাঁধানো পরিসংখ্যান-ঠিকই।
কিন্তু অপজিট সাইটে প্রশ্নঝুড়ি থেকে যায়, দিন-মাহিনা-হিজরিগুলোর ১২/১৩ টি সিঁড়ি বেয়ে “তারজামাতু মায়া’নিল কোর’আন” এর উপর কতটুকু দখল নেয়া হল আমাদের? অথচ এটাই আমাদের উলূমে আলিয়াভুক্ত সর্বোচ্চ লক্ষ্য, এটাই আমার জীবনের পাথেয়। জীবনের প্রতিটি পয়েন্টে এটিই আমাকে গাইড করে।
একেকটি জামেয়া থেকে মধু আহরণ করা, খিররিজভুক্তদের মেলা বেসামাল। শত সহস্র তালাবা ফারেগ হলেও, কম্পিলিট কুর’আনের তারজমা হাল রাখনেওয়ালা, শুমার করে বহুবচনের সংখ্যাতে তুলা যাবে বলে মনেহয়না! এমনকি ক্লাসের ফাস্ট বয়দের হালতও এর ব্যতিক্রম নয়।
আসুন, রামযানের এই রুখসাতকে ফুরসাত মনে করে, কোর’আনের মেহনাত করি। আমি বলছিনা তাফসিরে আয়াত বা ইসতিনবাতে আহকামাতের কথা।
বলছি, ধাহাবাহিক রুটিন করে কোরআনের মায়া’নার তারজমা ও তারজমার উপর তাদাব্বুর করা। যারা বেইসিক আরবি বুঝি তাঁরা নিয়মিত মেহনাত জারি রাখলে নেহায়াত ফায়দা পাবেন ইনশাল্লাহ।
সালাফরা রামযান আসলে, অন্যান্য সুগুল ক্লোজড করে, উলূমে কোরআনের মেহনাত শুরু করতেন। কারণ এ—তো কুরআনের মাস। কথা, গল্প, নাসিহা, হালাক্বা যাই হবে, তাদের হতো কোরান কেন্দ্রিক-সুবহানাল্লাহ।
ইমাম আহমদ ও ইমাম জুহরি রাহ, লিখে রাখতেন:
هذا شهر رمضان هذا شهر القرآن
অন্যান্য দারস অফ করে শুরু হত, হালাক্বাতুল কোরআনের মনোরম এক ইনতিজাম-ফাজাযাহুমুলাহ আহসানাল জাযা।
মাঝে মধ্যে ফেবুপাড়াতে উঁকি দিলে দৃষ্টিগোচর হতে থাকে, মেধাবী তালাবাদের সময় নষ্টের অহেতুক ব্যস্ততম এক প্লাটফর্ম(!) যা ছিল, জরুরিয়ত তা আজ হাজাতে রুপ নিচ্ছে! মায়াজাল্লাহ। কেহ অহেতুক পোস্ট করছে, কেহ নিজের এই সেই ছেড়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর টানছে। কেহ কমেন্টবাজিকে পুঁজি বানাচ্ছে! কেহ আবার ইস্যু থেকে ইস্যুতে ঘূর্ণায়মাণ, তাদের কার্যকলাপ দালালাত করছে, এই মাহিনা, এটাত শুধু বিনোদন ও উপভোগের মাস। ফুল বছরের আমোদ প্রমুদের ক্বাজা কাফফারা আদায়ের সময়-আল ইয়াজ বিল্লাহ। তারাবি পর থেকে সেহরি অবধি, ঘুম থেকে ওঠে ইফতার পূর্বাপর শুধুই ফেবুতেই একটিভ!
কী এমন ইসলামিক কাজ করা হচ্ছে এখানে? ভেবে অনেক সময় দিশেহারা হয়ে পড়ি। অথচ এখানের একেকজন মুসতাক্ববিলের আশাজাগানিয়া অঙ্কুরিত বিজ, যদি তাতে পানি সেচ করা হত। তাক্বাব্বালানাল্লাহ জামিয়া-আমীন।
প্রিয় প্রাঠক- আপনি হয়তো কতকের কাছে আইডল, কতকের আশার জাগা, কতকের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, কতকের স্বপ্নচূড়া। কিন্তু নিজে একটু ফিকির করে দেখিনা যে, আমি ফুল কুরআনের কম-আজকম কটি সূরা, কটি পাড়ার মায়া’নার তারজমা ক্লিয়ার পারি?
অবশ্যই দূর্বলতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবেন! এটাই তিক্ত এক জরিপ যা আমার সংক্ষিপ্ত তাজরিবা(!)
আপনিও দেখে নিতে পারেন।
আজ বুখারির পান্ডিত্য অর্জনের ব্যাহুত লোক পাওয়া যাচ্ছে-মাশাল্লাহ। কিন্তু এহানে?
অথচ বেঙ্গালী, এরাবিক, ইংলিশ, উপান্যাস ইত্যাদির কোন বই পেলে গদগদ করে পড়তেই থাকি, শেষ না করা অবধি ‘নো রেস্ট’ প্রজেক্ট জারি করি।
অথচ, আমার আপনার রাব্বের কিতাবে ক্বাদিমের উপর আমার মেহনাত কবে কেমন করলাম?
প্লিজ, তা'আম্মুল & তাফাক্কুর করবেন।
—
—
তারেক জামিল (উফিয়া আনহু)
ত্বালিব: আল—আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর।
12 রামাদ্ব্যান, 46হি। See less
24 March, 2025
আজকের দিনটি ছিল ভীষণ অর্থবহ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
মৌলভীবাজারস্থ 'এডুকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে' আজ প্রায় 75 জন শিক্ষককে নিয়ে আয়োজিত হয় একটি বিশেষ তারবিয়াতি সেশন।
সেশনের কেন্দ্রীয় থিম ছিল —
“কুরআনিক ও নববী টিচার ডিজাইন”
টানা দুই ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা ছিল সম্পূর্ণরূপে কুরআনের আয়াত ও হাদীসের আলোকে সাজানো।
আধুনিক উপস্থাপনার ছোঁয়ায় স্লাইড ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে জীবন্ত করে তোলা হয়, যেন সহজেই শিক্ষকগণ তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।
এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল —
একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত, তা আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ থেকে তুলে ধরা।
আলহামদুলিল্লাহ, অংশগ্রহণকারী শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন মনোযোগী, প্রাণবন্ত ও আগ্রহী।
আশা করি, এই তারবিয়াতি মুহূর্তগুলো তাদের পেশাগত ও আত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্পেশাল থ্যানক্স মুহতারাম প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার Zahirul Islam Jakir স্যারের প্রতি।
—
—
তারেক জামিল (উফিয়া আনহু)
স্টুডেন্ট: আল—আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর।
23 রামাদ্ব্যান, 46হি।
23 March, 2025
ক্বোরআনিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইসলামিক মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার এক অনুপম সমন্বয়ে পরিচালিত ‘এডুকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ মৌলভীবাজারে গড়ে তুলেছে এক দীপ্তিময় শিক্ষাকুঞ্জ।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক পৃথক ক্যাম্পাসসমূহে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ও সময়োপযোগী কারিকুলামের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ার মহতী অভিযানে।
আজকের এই আয়োজনের শুভক্ষণে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দু’টি ক্যাম্পাসেই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ & প্রায় তিন ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করি। পুরো আয়োজনে যেভাবে পরিপাটি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ছাপ ছিল—তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
শিশুদের কোমল কণ্ঠে বিশুদ্ধ ক্বোরআন তিলাওয়াত শুনে হৃদয় আপ্লুত হয়ে ওঠে। এই tender বয়সেই তারা যেমনভাবে আল্লাহর কালাম হৃদয়ে ধারণ করছে, তেমনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাতছানিও সমানভাবে গ্রহণ করছে—যা নিঃসন্দেহে এই দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত।
এই ব্যতিক্রমী ও দীপ্ত আয়োজনের জন্য প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তরের গভীর থেকে এক সাগর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
স্পেশালি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই বিদ্যাপীঠের প্রজ্ঞাবান পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার Zahirul Islam Jakir স্যারকে—যাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এই প্রতিষ্ঠান একটি মডেল শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
—
—
তারেক জামিল (উফিয়া আনহু)
স্টুডেন্ট: আল—আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর।
22 রামাদ্ব্যান, 46হি।